ডাকসুতে ৫৪ বছরে নির্বাচন মাত্র ৭ বার, সামনে বড় প্রশ্নগুলো

প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে, আর ১৯২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শুরু হয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। গত ১০০ বছরে ডাকসুর ভোট হয়েছে মাত্র ৩৭ বার। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে হয়েছে মাত্র সাতবার। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এক দফা নির্বাচন হলেও তা ছিল বিতর্কিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলছেন, আসন্ন ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—ক্যাম্পাস কি আবার দলীয় প্রভাবাধীন রাজনীতির কবলে পড়বে? শিক্ষার্থীদের গণরুম-গেস্টরুমের সংস্কৃতি কি ফিরে আসবে? জোর করে মিছিলে নেওয়া, নির্যাতন ও দখলদারিত্ব কি আবার শুরু হবে?

ইতিহাস বলছে, পঞ্চাশ ও ষাটের দশক পর্যন্ত ডাকসু মূলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় ছিল। তবে ষাটের দশকের পর থেকে রাজনৈতিক ভূমিকা বড় হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের পর দলীয় প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯৯১ সালের পর প্রায় তিন দশক নির্বাচন বন্ধ থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ডাকসু শুধু রাজনৈতিক নয়; নাটক, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছে। এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গড়ার জায়গা ছিল।

শিক্ষার্থীরা চান—নতুন নেতৃত্ব হলে দখল, গণরুম, গেস্টরুম সংস্কৃতি থেকে মুক্তি দেবে, সুলভ মূল্যে ক্যানটিনে খাবার নিশ্চিত করবে এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখবে। স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরাও গৌরবোজ্জ্বল ডাকসুকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার করেছেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ডাকসুর এই নির্বাচন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।