সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদের শ্যালক এবার জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন; অন্যদিকে বিএনপি দুইটি আসন এখনো খালি রেখেছে।

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫

কিশোরগঞ্জ–১ ও কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করায় অন্তত ১৬ জন বিএনপি নেতার মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে এ দুটি আসন আনুষ্ঠানিকভাবে খালি রাখা হয়েছে। সেই কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। তবে শোনা যাচ্ছে, এ দুটির একটি আসন বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় নয় মাস আগেই জামায়াতে ইসলামী জেলায় ছয়টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং তারা এখন মাঠে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারাও নির্বাচনী অঙ্গনে সক্রিয় আছেন। সিপিবি ও গণসংহতি আন্দোলন থেকেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

জেলার নির্বাচন ইতিহাসে দেখা যায়—১৯৯১ সালে সাতটি আসনের মধ্যে বিএনপি পাঁচটি এবং আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দুটি আসনে জয় পায়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুটিতে ও আওয়ামী লীগ পাঁচটিতে বিজয়ী হয়। ২০০১ সালে বিএনপি দুটি ও আওয়ামী লীগ পাঁচটি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আসন কমে ছয়টি হলে আওয়ামী লীগ পাঁচটি এবং জাতীয় পার্টি একটি আসন দখল করে।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর)

এ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান (চুন্নু), বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালীউল্লাহ্ রাব্বানী, সাবেক সাংসদ মাসুদ হিলালী, রুহুল হোসাইন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, হোসেনপুর উপজেলা আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম এবং এম আতিকুর রহমান।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোসাদ্দেক আলী ভূঁইয়া ইতোমধ্যে প্রচারণায় সক্রিয়। গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবু হানিফও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া)

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এবার দলের প্রার্থী পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র জালাল উদ্দীন। যদিও প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা নেই, দলীয় মহলে আরও বেশ কয়েকজন চুপিসারে মনোনয়নের জন্য সক্রিয় বলে জানা যায়। তবে জালাল উদ্দীনের দাবি—দল তাঁর পক্ষে একতাবদ্ধ।
জামায়াত এখানে শফিকুল ইসলাম মোড়লকে প্রার্থী করেছে। তিনি নিজেকে তরুণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে তরুণ ভোটারদের প্রতি আশাবাদী।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল)

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম ওসমান ফারুক এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০০১ সালের পর তিনি এবারই আবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন বিদেশে নির্বাসনে থাকার পরও জনগণ তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
২০০৮ সালে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা এবারও মনোনয়ন চান। তাঁর যুক্তি—যারা দুঃসময়ে এলাকায় ছিলেন, মনোনয়ন তাদের প্রাপ্য।
এই আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক (চুন্নু) আইনি জটিলতায় থাকলেও তিনি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি রাখছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জামায়াত এখানে মনোনয়ন দিয়েছে কর্নেল (অব.) জেহাদ খানকে, যিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক। তিনি স্বল্প সময়েই জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা বলেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম)

বিএনপি এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আইনজীবী মো. ফজলুর রহমানকে। তবে একই আসনে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুর রহিম মোল্লা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন—ফজলুর রহমানকে মনোনয়ন দিলে স্বৈরাচারী ধারা আরও শক্তিশালী হবে।
ফজলুর রহমান বলেন, তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি পক্ষ এ ধরনের কথা ছড়াচ্ছে।
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় আছেন ঢাকার উত্তর শাখার মজলিশে শুরা সদস্য শেখ রোকন রেজা, যিনি প্রথমবার মাঠে নেমেছেন।

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী)

বিএনপি এখনো এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ধারণা করা হচ্ছে—সহযোগী কোনো দলকে আসনটি ছাড়তে পারে। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় আছেন—শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, জি এস মীর জলিল, সাবেক মেয়র এহসান কুফিয়া, সাবেক সচিব আবদুল ওয়াহাব, বদরুল মোমেনসহ অন্তত আটজন নেতা।
শরিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।
জামায়াতের পক্ষে জেলা আমির রমজান আলী এখানে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি—সরকার পতনের পর জামায়াতকে ঘিরে জনমতের পরিবর্তন হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর)

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি মো. শরীফুল আলম। এটি তাঁর পঞ্চমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তিনি আশা করছেন—জেলার ছয়টি আসনেই বিএনপি ব্যতিক্রমী ফল করবে।
জামায়াত এখানে প্রথমবারের মতো কবির হোসাইনকে মাঠে নামিয়েছে। তিনি ভৈরব উপজেলা জামায়াতের আমির।