নিউইয়র্কে নেতাদের হেনস্তা: সমস্যার সূত্রপাত যেভাবে

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫

নিউইয়র্কে নেতাদের হেনস্তা: সমস্যার সূত্রপাত যেভাবে

নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতাদের হেনস্তার ঘটনাটি দেশ-বিদেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভিসার ধরন, প্রটোকল সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত উপস্থিতি এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছান। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তারা ভিভিআইপি প্রটোকলে বিমানবন্দর ত্যাগ করলেও সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতারা তা করতে পারেননি। কারণ, তাঁদের ভিসার ধরন বিশেষ প্রটোকলের সুযোগ দেয়নি। ফলে তাঁদের সাধারণ যাত্রীদের মতো ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। এখানেই প্রথম জটিলতার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটে

স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেল ৫টার দিকে জেএফকে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে বের হওয়ার সময় আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হামলার শিকার হন।

  • আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

  • তাসনিম জারাকে করা হয় কটূক্তি

  • বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন, তবে তিনি নিরাপদে সরে যান।

পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

অন্তর্বর্তী সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সহিংস সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ
সরকারের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়—ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সহযোগী ও সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে।

সরকার জোর দিয়ে বলেছে,

  • দেশে বা বিদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না

  • এ ধরনের ঘটনায় কূটনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে

  • সফরসঙ্গী নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন আরও জোরদার করা হয়েছে।

এনসিপি’র অবস্থান

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন,

  • আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতাদের দেশ-বিদেশে টার্গেট করছে।

  • সরকারের ভেতরের একটি অংশ এসব হামলার মদদ দিচ্ছে।

  • নিউইয়র্ক কনসাল জেনারেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বহীনতার জন্য শাস্তি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি তোলা হয়:
১. আখতার হোসেনের ওপর হামলাকারীদের সবাইকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেলকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে।
৫. জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

বিশ্লেষণ

এই ঘটনাটি মূলত তিনটি কারণে সংঘটিত হয়েছে:
১. ভিসা সমস্যা: সফরসঙ্গী নেতাদের ভিসার ধরন বিশেষ প্রটোকলের সুযোগ দেয়নি।
২. সমন্বয়হীনতা: নিউইয়র্ক মিশন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয় না থাকায় নেতারা অরক্ষিত অবস্থায় পড়েন।
৩. রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপস্থিতি: পূর্বনির্ধারিত অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নেতাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।