জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত বিএনপি প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৫ জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের আইনি কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে শিগগিরই চূড়ান্ত আলোচনা করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপিও আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। গত সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐকমত্য কমিশনের প্রেক্ষাপট গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। প্রথমে ৬ মাসের জন্য সময় পেলেও তা এখন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই দফা আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো ৮২টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। দ্বিতীয় দফায় ৩০টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে ২০টি মৌলিক প্রস্তাবের মধ্যে ১১টিতে সর্বসম্মতি হয়। বাকি ৯টি প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত নেওয়া হয়—যার মধ্যে ৭টিতে বিএনপির, ১টিতে জামায়াতের আপত্তি ছিল। এসব প্রস্তাব নিয়েই জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া তৈরি হচ্ছে। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিএনপি বলছে, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন প্রস্তাব যেকোনো সময় সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা নির্বাচিত সংসদে পাস করতে হবে। অন্যদিকে জামায়াত ও কিছু দল মনে করছে, শুধু অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়—একটি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপির অবস্থান স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোয় বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। বরং তারা বলছে, জুলাই সনদের বিষয়ে তারা শুরু থেকেই আন্তরিক ও সক্রিয় ছিল। আলোচনায় ডাকলে বিএনপি সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে এবং সংস্কার কার্যকর করতে চায়। আরপিও সংশোধন নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধনী নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধিকাংশ সংশোধনী বিএনপির পূর্ব দাবি অনুযায়ী হয়েছে। যেমন—আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি, পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা পুনর্বহাল, ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা, ইভিএম বাদ দেওয়া এবং সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া—এসবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কিছু বিষয়ে অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএনপির গঠিত কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান মাঠপর্যায়ের নেতা ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পোস্ট ভিউ : ২৬৬ SHARES জাতীয় বিষয়: