দলীয় বিরোধ ও মামলার নাটকীয় মোড়

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৫

দীর্ঘদিনের দলীয় অন্তর্কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, মামলাটি হঠাৎ প্রত্যাহার হওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মামলার বাদী ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নিজের দায়ের করা মামলা হঠাৎ করেই প্রত্যাহার করেন। এর পরপরই ঢাকার একটি আদালত বুধবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ দেয়

জি এম কাদেরের আইনজীবী মনোয়ার হোসাইন আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, দলীয় ভেতরে অনেকেই এটিকে “পূর্বপরিকল্পিত সমঝোতা” বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালতের বিচারক রোবায়েত ফেরদৌস বাদীর আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন ২ আগস্ট দাখিল করেছিলেন জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ শীর্ষ ১০ সাবেক নেতা আদালতে মামলা করেন, যেখানে জি এম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থীভাবে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তিনি অবৈধভাবে দলীয় সম্মেলন করে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেন।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ জুন সাতজন শীর্ষ নেতাকে সব পদ থেকে সরিয়ে দেন কাদের, পরে আরও তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় ওয়েবসাইট থেকেও তাদের নাম মুছে দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলো ঘিরে ১০ জুলাই মামলাটি দায়ের হয়, যা এক মাস না যেতেই রহস্যজনকভাবে প্রত্যাহার হয়ে গেল।