কিছুক্ষন আগে মাহতাব আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহহি রাজিউন) । প্রকাশিত: ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৫ “শেষ হাঁটা” (মাহতাবের করুণ বিদায়) কিছুক্ষন আগে মাহতাব আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহহি রাজিউন) । উত্তরার আকাশে হঠাৎ বিষাদের ধ্বনি। বিকট এক বিস্ফোরণ। একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংস করে দেয় মাইলস্টোন স্কুলের স্বপ্নগাঁথা ভবন। চিৎকার, কান্না, ধোঁয়া, আগুন—সবকিছু একসাথে মিলেমিশে এক ভয়াবহ বিভীষিকায় পরিণত হয় সেই দুপুর। চারপাশ যখন ভয় আর ধ্বংসস্তূপে ভরে যায়, ঠিক তখনই সেই দৃশ্য—এক শিশু, অগ্নিদগ্ধ শরীর নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে, উলঙ্গ, ব্যান্ডেজ ছাড়া, পুড়ে যাওয়া গায়ের ছোপে ছোপে লাল রক্ত। মাহতাব। মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। যার হাতে বই থাকার কথা ছিল, যার মুখে থাকার কথা ছিল স্বপ্নভরা হাসি। সে আজ নিঃশব্দ কষ্টের প্রতীক। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাহতাব শুধু বারবার চেষ্টা করছে কিছু বলার, কিন্তু তার কণ্ঠে কোনো শব্দ নেই, শুধু চোখ দুটি অজানা আতঙ্ক আর অভিমান নিয়ে তাকিয়ে থাকে চারদিকে— মা কোথায়? বাবা কোথায়? একটি জ্বলন্ত শিশু খুঁজে ফিরছে আপনজনকে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে যখন তাকে নেওয়া হয়, ডাক্তাররা একে একে শরীরের প্রতিটি অংশ ঢেকে দেয় ব্যান্ডেজে, কিন্তু মুখে পড়ে থাকে এক গভীর যন্ত্রণার ছায়া— যেখানে মৃত্যু অপেক্ষা করছে, অথচ মাত্ৰ একটি কথা বলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টাটা চালিয়ে যায়। অবশেষে… সব কোলাহল থেমে যায়। এক অবুঝ শিশুর আর্তচিৎকার শব্দ হয়ে আকাশে মিশে যায়। মাহতাব চলে যায় সেই দেশে, যেখান থেকে কেউ আর ফেরে না। তার ছোট্ট দেহটি থেকে জীবনের আলো নিভে যায় চিরতরে। আজ আমরা কাঁদি, জাতি কাঁদে, শিক্ষক কাঁদে, সহপাঠীরা কাঁদে— কিন্তু মাহতাব আর ফিরবে না। শুধু তার শেষ হাঁটার দৃশ্যটা রয়ে যাবে আমাদের চোখের সামনে— একটা ছোট্ট জীবনের সাহসী লড়াই, যা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে যাবে চিরকাল। মাহতাব ছিল একজন যোদ্ধা— যে মৃত্যু আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্তও হার মানেনি। তার যন্ত্রণাবিধুর চোখ দু’টি যেন আজও বলে যায়— “আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম… আরও একটু মায়া চাইছিলাম… কিন্তু আগুন আমার স্বপ্নগুলো পুড়িয়ে নিয়ে গেছে চিরতরে…” মাহতাব ছিলেন – কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১১নং রাজামেহার ইউনিয়নের চুলাশ ভূইয়া বাড়ির মোঃ মিনহাজুর রহমান ভূূইয়ার একমাএ পুএ মোঃ মাহতাব ভূইয়া । মহান আল্লাহ পাক যেন মাহতাবকে শহীদের মর্যাদা দান করে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকলকে ধৈর্য ধারন করার তৌফিক দান করেন আমিন! শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা মাহতাবের স্মৃতির প্রতি। তোমার সাহস আমাদের শিখিয়ে গেল, ব্যথার মধ্যেও কীভাবে শক্ত থাকতে হয়। পোস্ট ভিউ : ২৪৭ SHARES নারী ও শিশু বিষয়: