আহ!!! এই ধরনের দৃশ্য সত্যিই দুঃখজনক প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২৫ আহ!!! এই ধরনের দৃশ্য সত্যিই দুঃখজনক রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে দগ্ধ শরীরগুলো কোনো কথা বলছে না! বডি ব্যাগে মোড়ানো নিথর দেহগুলো পড়ে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সামরিক হাসপাতালে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে অগণিত মানুষ—প্রত্যেকের চোখে একটাই প্রশ্ন: “আমার মানুষটা কোথায়?” প্রিয়জনের ছবি হাতে বারবার ভিতরে ঢুকছেন অনেকে, আবার ফিরেও আসছেন হাহাকার নিয়ে। মুখ নেই, পোশাক নেই, দাগ নেই—চেনার কিছুই নেই দেহগুলোর। অজানা মৃত্যুর এমন দৃশ্যের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছেন সব বয়সী মানুষ। হাসপাতালের মর্গের বাইরে কান্নার শব্দ থেমে থেমে বাড়ছে। একজন বৃদ্ধা বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, “ওর হাতে দাগ ছিল, এখন কিছুই নাই। কেমনে চিনুম?” একজন যুবক জানালেন, “পাশে আধপোড়া আইডি কার্ড ছিল, সেটা ধরেই বলছে এটা ওর লাশ। কিন্তু মুখ তো নেই। বিশ্বাস হয় না।” বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ এতটাই দগ্ধ যে চেহারা কিংবা শরীরের গঠনে কোনো পরিচয় মিলছে না। মৃতদের স্বজনদের থেকে ডিএনএ নমুনা নেওয়া শুরু হয়েছে। শনাক্তকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো লাশ হস্তান্তর করা হবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, “চেহারার কোনো অবশিষ্ট নেই। পোশাক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু হাড় ও দাঁতের গঠন কিংবা ডিএনএ পরীক্ষাই এখন ভরসা। এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।” মর্গের ভেতরে জেট ফুয়েলের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে আছে। বাইরে অপেক্ষা করা মানুষদের কেউ ১২ ঘণ্টা, কেউ বা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ খাবার খাননি, কেউ বসার জায়গাও পাননি। স্বজনদের হাতে ফোনের পর্দায় প্রিয়জনের ছবির উপর ঘন ঘন আঙুল চলে যাচ্ছে—যেন ছবিটার মুখ মিলিয়ে নিতে চান পোড়া দেহের সঙ্গে। কিন্তু মেলে না কিছুই। একজন পিতা তাঁর পুত্রের নাম উচ্চারণ করে বলছিলেন, “ও কাল সকালে বলছিলো, ‘বাবা, আজ ট্রেনিং আছে।’ এখন আমার ছেলেটার শরীর নাই, শুধু একটা পোড়া ঘড়ি… জানি না ওর কিনা।” হে আল্লাহ তুমি আমাদের উপর রহম করো ..! পোস্ট ভিউ : ৪০২ SHARES গণমাধ্যম বিষয়: