ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতি: ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড।

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৫

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা বন্ড নীতি: প্রথম নিশানায় মালাবি ও জাম্বিয়া

ঢাকা, ১ ১ আগস্ট ২০২৫ – মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন এক অভিবাসন আইন প্রস্তাব করেছে, যেখানে মালাবি ও জাম্বিয়ার B-১ (ব্যবসায়িক) ও B-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) দিতে হবে। এটি ২০ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে একটি বার্ষিক পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে।

কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই নীতি?

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যে দেশগুলোর আবেদনকারীদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার (ওভারস্টে) হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি, তারা এ পদক্ষেপে প্রথমে নিশানায় থাকবে। তবে যদি আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়েন, তাহলে জমাকৃত জামানত ফেরত পাওয়া যাবে।

কাদের ওপর প্রয়োগ হবে?

২৪টি দেশের ভ্রমণকারীদের ওপর ইতিমধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। এর বাইরে, কানাডা ও মেক্সিকো এবং ভিসা–ওয়েভার প্রোগ্রামের (৪০+ দেশ) অংশগ্রহণকারীরা এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়বেন না। তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে যারা “সিটিরজনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট” (বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব) কর্মসূচি চালায়।

জামানতের পরিমাণ কেমন হবে?

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে—জামানতের তিন স্তর হতে পারে: ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার আবেদনকারীকে এই শর্ত পূরণ করতে হতে পারে, যা গড়ে প্রায় ২ কোটি ডলার জমার সম্ভাবনা তৈরি করছে। জামানতের পরিমাণ নির্ধারণে কনস্যুলাররা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কর্ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেবেন।

পেছনের প্রেক্ষাপট

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালে মহামারির সময় এভাবে ভিসা বন্ড চালুর চেষ্টা করেছিল, তবে কোভিড-১৯-এর কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই পদক্ষেপকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পুনরায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে এই ব্যবস্থাপনা কোন দিক থেকে যুক্তিযুক্ত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে ‘নির্বাচনাত্মক ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে সমালোচিত হতে পারে। যেসব দেশে ঐতিহাসিকভাবে ভিসা অবৈধভাবে থাকা ঘটেছে, তাদের নাগরিকরা এখন প্রলোভন বা সত্যিকারের ভ্রমণের সুযোগ হারাতে পারে—শুনতে যেমন কঠিন, বাস্তবে অনেকে হয়তো ব্যর্থতা বা আর্থিক অস্বচ্ছতা ভেবে ভোগান্তিতে পড়বে। তো, এই নতুন ভিসা বন্ড নিশ্চয়তা কি সত্যিই যুক্তিযুক্ত, নাকি ক্ষুদ্র আর্থিক বাধা হিসেবে ‘ডিসএবল’ করবে প্রবাস যাওয়ার স্বপ্ন?